মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন

পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদনের পথে

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২ নভেম্বর, ২০২৫

বাংলাদেশে পুলিশ কমিশন গঠনের লক্ষ্যে প্রণীত অধ্যাদেশের খসড়া প্রস্তুত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী দু-এক দিনের মধ্যে খসড়া সচিব কমিটির মাধ্যমে উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।

খসড়া প্রণয়নে নেতৃত্ব দিয়েছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল, যিনি উপদেষ্টাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে প্রস্তাবিত কমিশনের কাঠামো ও কার্যক্রম নির্ধারণ করেছেন।

প্রস্তাবিত খসড়ায় বলা হয়েছে, কমিশনের চেয়ারম্যান হবেন সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। সদস্য হিসেবে থাকবেন একজন অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ, একজন গ্রেড-২ বা তার ওপরের সরকারি কর্মকর্তা, একজন অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক পদমর্যাদার অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা, পুলিশ একাডেমির একজন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, আইন ও অপরাধবিজ্ঞান বিষয়ের একজন অধ্যাপক এবং অন্তত ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন মানবাধিকারকর্মী।

কমিশনের চেয়ারম্যান আপিল বিভাগের বিচারপতির সমমর্যাদার হবেন এবং সদস্যরা হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতির সমপদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করবেন। সদস্যদের দায়িত্বকাল ৪ বছর নির্ধারিত হয়েছে এবং মেয়াদ শেষে পুনঃনিয়োগের সুযোগ থাকবে না।

খসড়া অধ্যাদেশে কমিশনের নির্দেশ বা সুপারিশ বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর আওতায়, কমিশন যে কোনো কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনধিক তিন মাসের মধ্যে তা বাস্তবায়ন করে কমিশনকে জানাতে হবে। প্রয়োজনে, যদি বাস্তবায়নে কোনো সমস্যা থাকে, ৩ মাসের মধ্যে তা জানাতে হবে, এরপর কমিশন পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে নির্দেশ বা সুপারিশ প্রদান করবে।

কমিশনের সদস্য পদে নিয়োগের জন্য ৭ সদস্যের একটি বাছাই কমিটি গঠন করা হবে। এতে থাকবেন প্রধান বিচারপতির মনোনীত সুপ্রিম কোর্টের একজন আপিল বিভাগের বিচারপতি, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপারসন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির মনোনীত একজন সরকারদলীয় এবং একজন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য। ন্যূনতম ৫ সদস্য উপস্থিতিতে বাছাই কমিটির কোরাম পূর্ণ হবে এবং প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে।

খসড়ায় কমিশনের বিভিন্ন কার্যক্রমের বিষয়ও সংযুক্ত রয়েছে—কমিশনের কার্যালয়, সদস্য নিয়োগ, মেয়াদ, অযোগ্যতা, পদত্যাগ, অপসারণ, পুলিশি কার্যক্রমে দক্ষতা বৃদ্ধি, শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি, নাগরিক অভিযোগের অনুসন্ধান ও নিষ্পত্তি, পুলিশ সদস্যদের সংক্ষোভ নিরসন, পুলিশ প্রধান নিয়োগ, আইন-বিধি, নীতিমালা প্রণয়ন এবং গবেষণা।

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্যের পর জুলাই জাতীয় সনদেও পুলিশ কমিশন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো সংবাদ