এতে তিনি সিলেটের উন্নয়নে সাইফুর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগকে নিয়ে সমালোচনা করেন। আন্দোলনে নামার জন্য দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের আহ্বান জানান। তার এই বক্তব্যে সিলেটে যখন তোলপাড় চলছে তখনই পাল্টা জবাব দিলেন আসাদ উদ্দিন আহমদ। গতকাল বিকালে তিনি ফেসবুক আইডিতে জবাব দিয়ে লিখেছেন- ‘মেয়র সাহেব, আপনি ভুলে যাবেন না আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে মেয়রের চেয়ারে বসে আছেন। ইচ্ছামতো সরকারের টাকার অপচয় করছেন।’ তার এই বক্তব্য নিয়েও বিএনপি ঘরানার নেতাকর্মীদের মধ্যে তোলপাড় চলছে। ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে নানা আলোচনা ও সমালোচনা হচ্ছে। আসাদ উদ্দিন আহমদ তার স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেছেন, সম্প্রতি সরকার ও আওয়ামী লীগকে নিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর করা কটুক্তিমূলক মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সেইসঙ্গে এসব অসৌজন্যমূলক, অশালীন বক্তব্য প্রত্যাহার করার আহ্বান জানাচ্ছি।’ সিলেটের সাবেক ও বর্তমান দুই মন্ত্রীর কথা উল্লেখ করে আসাদ বলেন- ‘অতীতে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ও বর্তমানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন মহোদয়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেট নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে দু-হাত ভরে সিটি করপোরেশনকে শত শত কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে যাচ্ছেন। আপনি সেই টাকায় পছন্দের ঠিকাদারকে দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে যা ইচ্ছা তাই করে যাচ্ছেন। এত গাফিলতি এবং অনিয়মের পরেও সরকার উন্নয়নের স্বার্থে দেশের এক সময়ের শীর্ষ তালিকাভুক্ত দুর্নীতিবাজ হওয়া সত্ত্বেও আপনার বরাদ্দ বন্ধ করেনি। কিংবা সিলেটের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাও কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেনি। কারণ আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না বরং সম্প্রীতির রাজনীতিতে বিশ্বাসী।’ আসাদ জানান- ‘দুঃখ হয়, এত সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার পরও আপনি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গণ্ডারের চামড়ার সঙ্গে তুলনা করলেন। আর কি পেলে আপনার মধ্যে সামান্যতম কৃতজ্ঞতাবোধ জন্ম নেবে? বক্তব্যে আপনি শক্ত আন্দোলনে যাওয়ার কথা বললেন। সেটি আবার মিছিল-মিটিং ছাড়া অন্যভাবে। তবে কি আপনি আবারো ২০১৪ সালের মতো পেট্রোল বোমার দ্বারা পুড়িয়ে মানুষ হত্যার ইঙ্গিত দিলেন? ভবিষ্যতে যদি আধ্যাত্মিক নগরী সিলেটে এ ধরনের কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটে তবে উস্কানিদাতা হিসেবে এর দায়-দায়িত্ব আপনাকেই নিতে হবে।’ নগর ভবনকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন অভিযোগ তুলে আসাদ উল্লেখ করেন- ‘সেবামূলক প্রতিষ্ঠান সিটি করপোরেশনকে রূপ দিয়েছেন মানুষের আতঙ্কের প্রতিষ্ঠান হিসেবে। অবৈধভাবে অর্থের বিনিময়ে মাস্টার রোলে নিয়োগ দিয়েছেন কয়েকশ’ কর্মকর্তা-কর্মচারী। যানবাহন ক্র?য় থেকে শুরু করে বিভিন্ন পণ্য ক্রয়ে করা হয়েছে পাহাড়সম দুর্নীতি। এক কাজ একাধিকবার করে তুলেছেন শত কোটি টাকার বিল। জলাবদ্ধতা নিরসনে এখন পর্যন্ত শ’শ’ কোটি টাকা ব্যয় হলেও মাত্র ১০ মিনিট বৃষ্টি হলেই পানিতে তলিয়ে যায় অর্ধেক নগরী। নগরবাসীর আবেগের জায়গা হযরত মাণিক পীর গোরস্থানে মানুষের স্বজনের কবরে চালিয়েছেন বুলডোজার, জুতা পায়ে সদলবলে হাঁটছেন কবরের উপর দিয়ে। নগরবাসীকে পানীয় জলের ব্যবস্থা আর মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা করতে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। আর, সিলেটের রাস্তাঘাটের দুরবস্থার কথাতো মানুষের মুখে মুখে। কিন্তু তা আপনার কানে পৌঁছায় না।’ স্ট্যটাসের শেষ অংশে আসাদ জানান- ‘গত কয়েকদিন আগেও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, সিটি করপোরেশনের বরাদ্দ থেকে এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন ইউনিয়নের জায়গায়। জনশ্রুতি আছে, শুধুমাত্র ব্যক্তিস্বার্থে নিজের মালিকানাধীন ভূমির কদর বাড়াতেই এ কাজ করা হয়েছে। আপনার এসব আচরণ দেখে সিলেটি ভাষার একটা প্রবাদ খুব মনে হচ্ছে- ‘কার হগদায় খাওগো বান্দি, ঠাকুর চিনো না।’